নারীর প্রতি শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই নারীবিদ্বেষ, বৈষম্য এবং নারীদের প্রতি সহিংস হয়ে ওঠার উদাহরণ রয়েছে। রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার এবং ধর্ম—শুধুমাত্র প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীদের জীবনাচরণকে নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে।
তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা একান্নবর্তী। এখানে ধর্মের প্রভাব বেশ প্রবল। ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, ইসলামী মৌলবাদ, উগ্রবাদ এবং চরমপন্থা বেশ বিকশিত। নারীদের স্বাধীনতা এ বিধিব্যবস্থায় প্রশ্নবিদ্ধ। কখনো কখনো মানবাধিকারেরও স্পষ্ট ব্যত্যয়। কিন্তু এসব অবদমনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীদেরই সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে হবে।
সম্প্রতি বিএনপির একজন সংসদ সদস্য মৌলবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যদের হিজাব ও নিকাব নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনারা লেখাপড়া করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। দুইজনের বক্তব্য শুনলাম, কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা। আপনাদেরকে তো আমরা চিনি না।
এসব নারী সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে ধর্মের যাঁতাকলে সমস্ত শরীর কালো কাপড়ে আবৃত। যেন এক ভূতুড়ে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
এপস্টিন নবী মোহাম্মদের ধর্ম ইসলাম নারীদের ওপর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেয়। এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সেই আফগান নারীদের মতো রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা শুধুমাত্র শিক্ষা, কাজ ও স্বাধীনতা বলে চিৎকার করছেন; তাঁরা শুধুমাত্র নিজেদের জন্য নয়; ধর্মের নামে, ইসলামের নামে নারীর প্রতি সকল নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গুলির মুখেও আফগান নারীদের মতো প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হবে।
ধর্ম কখনোই নারীকে সম্মানিত করেনি। মুসলমানের ধর্ম ইসলাম। কিন্তু কেমন ছিল দ্বীন ইসলামের ধর্মপ্রচারক নবী মোহাম্মদের ব্যক্তিগত চরিত্র?
নবী মোহাম্মদ স্বয়ং শিশু ধর্ষণকারী ও যৌনাচারী। স্বয়ং আল্লাহও কখনো কখনো নবী মোহাম্মদের ধর্ষণ ও নারীলিপ্সুতার বৈধতা দিয়েছে কোরআনের আয়াত নাজিল করে! উদাহরণ হিসেবে ৬ বছরের নাবালিকা শিশু আয়েশা। নবী মোহাম্মদ স্বপ্নে আয়েশাকে দেখলেন। নবীর বীর্যপাত হলো। নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। বিয়ের নামে, ইসলামের দোহাই দিয়ে শারীরিক যৌনপীড়ন চালালেন নবী মোহাম্মদ। এবং স্বয়ং ইসলাম ধর্মের আল্লাহ হলেন সহায়তাকারী। আল্লাহ কত মহান!
ধর্ম যুগের পর যুগ নারীর শরীর, চুল, মুখাবয়ব—এসবকে লজ্জা, পাপ ও প্রলোভনের উৎস হিসেবে বর্ণনা করে এসেছে। চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নারীবিদ্বেষ।
এভাবেই যন্ত্রণা, অপমান ও অসহায়ত্ব নারীকে গ্রাস করেছে ধর্মের নামে। নারীদের বিদ্রোহী হয়ে উঠতে হবে। এসব বোরখা, হিজাব, নিকাব রাস্তায় নেমে ইরানের নারীদের মতো প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পোড়াতে হবে ধর্মের কেতাবের নামে নারীদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া বিধিব্যবস্থার চটিগল্পের সংকলন কোরআন। তবেই আসবে নারীমুক্তি।
Post Comment