বাংলাদেশে এলজিবিটিকিউ+ অধিকার, লিঙ্গ পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতা

বাংলাদেশে এলজিবিটিকিউ+ মানুষদের লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্যের পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্ন ও আলোচনা দীর্ঘদিনের।

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হিজড়া’ জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক ‘হিজড়া’ সংস্কৃতির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু বাংলাদেশে সমকামী, উভকামীদের অধিকার এবং নিজস্ব যৌন পরিচয়ে স্বাধীন জীবনযাপনের প্রশ্ন বেশ কঠিন। এখানে নিরাপত্তাহীনতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবেও অধিকারের প্রশ্ন নিয়ে সংশয় আছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে ইসলামের সাথে সহাবস্থানে আছে ধর্মীয় উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও চরমপন্থা। এদের রয়েছে ধর্মীয় ফতোয়া, যার মধ্য দিয়ে ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষ, বিশেষ করে (পুরুষের সাথে পুরুষের যৌন সম্পর্ক এবং নারীর সাথে নারীর যৌন সম্পর্ক) এমন বিষয়ে বেশ কঠোর। সেখানে তাদের অধিকার এবং মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেশের আইন ও সরকারও এসবের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে।

৩৭৭ ধারায় সমলিঙ্গ যৌন সম্পর্ক (same-sex relations) অপরাধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটি “colonial-era law” হিসেবে আধুনিক মানবাধিকার ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। 

লিঙ্গ বৈচিত্র্য বিষয়ে মূল বিভ্রান্তিগুলোর একটি হলো—এটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য (sex) নাকি সামাজিক-মানসিক পরিচয় (gender) সম্পর্কিত বিষয়। আধুনিক ব্যাখ্যায় লিঙ্গ পরিচয়কে মূলত সামাজিক ও মানসিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে একজন ব্যক্তির জন্মগত জৈবিক লিঙ্গের সঙ্গে তার অভ্যন্তরীণ লিঙ্গ পরিচয় মিলতেও পারে, নাও পারে—এমন ব্যক্তিকে সাধারণত ট্রান্সজেন্ডার বলা হয়। এই ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতেও বিতর্ক রয়েছে।

সার্বিকভাবে এলজিবিটিকিউ+ বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্ন নয়, বরং এটি রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা ও আইন ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি মানবাধিকার ও সামাজিক নীতিগত ইস্যু। বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও নীতিগত আলোচনায় ILGA World নিয়মিতভাবে তুলে ধরে যে বহু দেশে এখনও আইনগত নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক বৈষম্য এবং সহিংসতার ঝুঁকি এলজিবিটিকিউ+ ব্যক্তিদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশও এই আঞ্চলিক বাস্তবতার বাইরে নয়—এমন পর্যবেক্ষণ বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

Post Comment