নারীর শরীর, স্বাধীনতা ও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ

একজন নারীর স্বাধীনতা ও শরীর কোনো ধর্মীয় ফতোয়ায় নিয়ন্ত্রিত হওয়া অপ্রাসঙ্গিক। একজন মানুষের শরীর তার নিজের—কোনো ধর্ম, রাষ্ট্র বা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নয়। ইতিহাসে দেখা যায়, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে নারীর পোশাক, চলাফেরা, শিক্ষা, বিবাহ, মাতৃত্ব এবং যৌনজীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো বিশ্বাস বা মতাদর্শ যদি একজন নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সীমিত করে, তবে সেটি মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় ইসলামের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং অধর্মের পর্দার আড়ালে আছে। যেখানে উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও চরমপন্থাই শেষ কথা। শরীয়াহ আইনের নামে আরবের মরুচারী ধর্ষক নবী মুহাম্মদের জাহেলিয়াতকে প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। দেশে তালেবানী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়। যেখানে শুধু সামাজিকভাবেই নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও মৌলবাদের অগ্রগতি ঘটেছে।

এ মৌলবাদীরা নারীর ক্ষমতায়ন চায় না। নারীদের চায় যৌনদাসী হিসেবে। এবং ৬ বছরের শিশু আয়েশার ধর্ষক পতিত নবী মুহাম্মদের জীবনেও ছিল অবাধ যৌনাচার। ১১-এর অধিক স্ত্রী আর যৌনদাসীদের নিয়ে এক নগ্ন জীবনের উপস্থাপনা করেছে তাঁর কথিত উম্মতদের প্রতিও।

এ উন্মাদ উম্মতেরা শরীয়াহ আইনের নামে নারীদের পঙ্গু করে পর্দায় আবৃত করে রাখতে চায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও বিএনপির এক এমপি মৌলবাদী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামীর এক নারী এমপিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বলেন, এরা কারা, এদের তো আমরা চিনি না, চিনতে পারি না।

বাধ্যতামূলকভাবে শুধুমাত্র ইসলামের নামে নারীদের পর্দার আড়ালে করে রাখা হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন ও রাজনৈতিক দল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। কিন্তু বিএনপির এই সংসদ সদস্য যথার্থই বলেছেন।

নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা থাকবে। আমি কী পরব, কোথায় যাব, কীভাবে নিজেকে সাজিয়ে তুলব—এটি আমাদের একান্তই ব্যক্তিগত। কালো বোরখায় সমস্ত মুখ ঢাকা সেসব নারীদের ভূত-প্রেত বলেই মনে হচ্ছিল আপাতদৃষ্টিতে। এবং এসব পোশাক অবশ্যই সেসব নারীরা ধর্মের সেসব যৌনপীড়কদের জন্যই পরতে বাধ্য হয়েছেন। এ যেন এই কালো কাপড়ে ঢাকা ভুতুড়ে বাংলাদেশ।

এসব উগ্রবাদী ইসলামী জঙ্গিদের যদি সুযোগ থাকত, এরা এদের লিঙ্গ পরিচয়হীন, নবীকে ধর্ষণের নির্দেশদাতা কথিত আল্লাহকেও প্রশ্ন করত নারীদের পর্দাবৃত না করে কেন পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন? তাঁর ভুলের জন্য নারী আজ কতটা অনিরাপদ, যার জন্য শরীরে বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থাও রাখা একটি অপরাধে পরিণত হয়েছে!

একজন নারী কী পোশাক পরবেন, কাকে বিয়ে করবেন, সন্তান নেবেন কি নেবেন না, কীভাবে জীবনযাপন করবেন—এসব সিদ্ধান্ত তার নিজের হওয়া উচিত। এবং যৌন স্বাধীনতাও একই ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কথিত ভন্ড নবী মুহাম্মদের ইসলাম পুরুষকে একাধিক স্ত্রী ও বেহেশতে ৭২ হুরের সাথে অবাধ যৌনতার অনুমোদন দিয়েছে। এটি দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাঁর কোরানের মাধ্যমে। কোরান অবাধ যৌনাচারের সেই আসমানী লাইসেন্স!

নারীদের ক্ষেত্রে এসব বৈষম্যের পেছনে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সামাজিক রীতি এবং পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি একসঙ্গে কাজ করে। তাই শুধু আইন পরিবর্তন করলেই হবে না; প্রয়োজন এমন একটি ধর্মহীন সমাজ, যেখানে নারীর অধিকারকে ধর্মীয় পরিচয়ের গণ্ডিতে বাধার সুযোগ থাকবে না।

কেউ ধর্ম পালন করতে চাইলে তা তার ব্যক্তিগত অধিকার, আবার কেউ ধর্মে বিশ্বাস না করলেও তার সমান মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আমার কাছে মানবতাবাদই সেই পথ, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে এবং সেই অধিকারই একটি সভ্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের প্রকৃত ভিত্তি।

Post Comment