ধর্ম নয়, মানবতাই হোক সভ্যতার ভিত্তি

ধর্ষণ/বলাৎকার কি পবিত্র কর্ম? এমন কর্মের মাধ্যমে কি স্রষ্টার সহমর্মিতা লাভ করা সম্ভব, ইসলাম ধর্মের কথিত হাশরের ময়দানে?

নবী মুহাম্মদের ইসলাম ধর্মের লিঙ্গপরিচয়হীন, অশরীরী আল্লাহ এ বিষয়ে কী বলেন?

আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেও ধর্ষণ বৈধ ছিল। একজন নারী হিসেবে নবী মুহাম্মদের দাম্পত্য জীবনে ১১ জন স্ত্রী, রূপকথার জান্নাতে যৌনসঙ্গী হিসেবে ৭২ হুরের সঙ্গে লীলাময় জীবন এবং তার সঙ্গে এ দুনিয়ার পুণ্যবতী স্ত্রীকেও অন্তর্ভুক্ত করার গালগল্প বিস্ময়ের উদ্রেক করে।

জান্নাত অনেকটা লিঙ্গহীন স্রষ্টার অবাধ যৌনাচারের হারেমখানা বা পতিতালয়ের মতো। সেখানে মুমিন ব্যক্তিরা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতে গ্রুপ সেক্সে শূকরের মতো লিপ্ত হবেন। জান্নাতে অবাধ ধর্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সুতরাং পৃথিবীকে জান্নাত বানানোর জন্য মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো বদ্ধপরিকর।

বাংলাদেশেও রাষ্ট্র ও সামাজিক পরিসরে মৌলবাদীদের ব্যাপ্তি বহুগুণে বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও সংকটের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান ঘটেছে। সেখানে বিএনপিসহ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি ছিলেন। এটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফতে মজলিশ, হিযবুত তাহরীরের মতো বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে। তারা প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলছে।

কিন্তু কেন?

শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা গেলেই কি নবী মুহাম্মদের মতো ১১ জন স্ত্রী ও যৌনদাসীদের নিয়ে গ্রুপ সেক্সে উন্মত্ত হওয়া সম্ভব? কিংবা ছয় বছরের শিশু আয়েশাকে স্বপ্নে দেখে আল্লাহর নির্দেশে বিয়ের নামে যৌন নিপীড়ন বা শিশু ধর্ষণ চালানো সম্ভব—শুধু এজন্যই?

একজন শিশু ধর্ষণকারী নবী মুহাম্মদকে কীভাবে এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে মুসলমানরা প্রচার করে? একজন নারী হিসেবে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এটি আমাকে লজ্জিত করে। যে নবী মুহাম্মদ ইসলাম প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তৈরি করে জিহাদের নামে যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের যৌন নিপীড়ন চালাতেন এবং যৌনদাসী হিসেবে ভোগ করার পর বিক্রি করে দিতেন—এমন একজন যৌন নিপীড়ক কীভাবে পথপ্রদর্শক হতে পারেন?

ধর্ষণের আরেকটি অধ্যায় হলো বলাৎকার। বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়। সেখানে আল্লাহর নামে ধর্মীয় আলেমরা শিশুদের পায়ুপথে যৌন নির্যাতন করে নিজেদের যৌন চাহিদা পূরণ করে। মাদ্রাসাগুলো বর্তমানে শিশু যৌন নির্যাতনের একটি ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে, এবং বহু যৌন নিপীড়নের ঘটনা মাদ্রাসার শিক্ষকদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তাই শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকারের উচিত মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া।

ইসলাম শুধু নয়, কোনো ধর্মই মানুষের জীবনাচরণে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। ধর্ম সব সময় উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সংকট সৃষ্টি করে। ভ্রান্তির জন্ম দেয়। সকল ধর্মকে পরিত্যাগ করে মানবতাবাদী সমাজব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই এর উত্তরণ সম্ভব।

Post Comment