ধর্ম নয়, মানবতাই হোক সভ্যতার ভিত্তি

ধর্ষণ/বলাৎকার কি পবিত্র কর্ম? এমন কর্মের মাধ্যমে কি স্রষ্টার সহমর্মিতা লাভ করা সম্ভব, ইসলাম ধর্মের কথিত হাশরের ময়দানে?

ধর্ম ইসলামের দর্শন, কোরআন এ বিষয়ে কি বলে?

বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও সামাজিক পরিসরে মৌলবাদীদের ব্যাপ্তি বহুগুণে বেড়েছে। এরসাথে বেড়েছে বাংলাদেশের কাওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের মত বিষয়। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে কাওমি মাদ্রসা, মসজিদের মত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গণমাধ্যমে যে অভিযোগটি বেশ গুরুত্বসহকারে উত্থাপিত হচ্ছে; শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের মত বিষয়টি। মাদ্রসা পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিবর্গ এমন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্ম ইসলাম ভালো মানুষ তৈরি করে না কখনোই। এরাই ধর্ষক ও বলাৎকারকারী। এসব মসজিদ-মাদ্রাসায় পড়া বেশিরভাগ শিক্ষকও ছাত্র অবস্থায় বলাৎকারের শিকার হয়। সামাজিক সম্মান, ভয় ও ধর্মের প্রভাবের কারণে এসব ঘটনা প্রকাশ থেকে ভুক্তভোগীদের দূরে রাখে।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকেই দেশে এই ইসলামপন্থীদের উত্থান ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও সঙ্কটের মধ্য দিয়েই সারাদেশে এই মৌলবাদী ইসলামী গোষ্ঠির উত্থান। এরই মধ্যে সারাদেশে এ গোষ্ঠী বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়েছে। সারাদেশে সাদাকালো কলেমাখচিত পতাকার মিছিল, শরিয়াহ আইন ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবীও তোলা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফতে মজলিশ, হিযবুত তাহরীরের মতো বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে। তারা প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলছে।

কিন্তু কেন?

শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা গেলেই কি ইসলামে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্থার চিত্র ঐতিহাসিক ভাবে পাওয়া যায় তার বাস্তবায়ন সম্ভব? যেখানে মাদ্রাসায় বলাৎকারে অভ্যস্ত এসকল ধর্মীয় আলেমেরা ইসলামে হালাল করা বহু বিবাহের নামে একাধিক নারীকে বিয়ের মধ্য দিয়ে নারীর অধিকাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। ইসলামের অতীত ইতিহাস ও নবী মুহাম্মদের প্রদর্শিত বিধিব্যবস্থা ঠিক এমনই। যেখানে নারীদের আত্মমর্যাদাকে খুব হেয় করে দেখা হয়।

নারীদের বিষয়ে ইসলামে এমন অবমাননাকর ব্যবস্থার যিনি প্রবর্তন ও প্রদর্শন করেছেন, তাঁকে কিভাবে এ কীভাবে এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে মুসলমানরা প্রচার করে?

যে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তৈরি করে জিহাদের নামে যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের প্রতি অবমাননাকর ইতিহাস তৈরি করে গেছেন। সেখানে নারীদের শারীরিক, মানুষিকভাবে লাঞ্চিত করা হত; এবং কিছু বর্ণনায় এসেছে, সেসব যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি দাসী হিসেবে বিক্রিও করা হত। এবং এসকল নারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হত। এবং ইসলাম এসবের অনুমোদন দিয়েছে। কোরআনও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আয়াতের মাধ্যমে এর পক্ষপাতিত্ব করার পাশাপাশি বৈধতা উৎপন্ন করেছে।

ধর্ষণের এমন আরেকটি অধ্যায় হলো বলাৎকার। বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিষয়টি। সেখানে আল্লাহর নামে ধর্মীয় আলেমরা শিশুদের পায়ুপথে যৌন নির্যাতন করে নিজেদের যৌন চাহিদা পূরণ করে। মাদ্রাসাগুলো বর্তমানে শিশু যৌন নির্যাতনের একটি ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে, এবং বহু যৌন নিপীড়নের ঘটনা মাদ্রাসার শিক্ষকদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তাই শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকারের উচিত মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া।

ইসলাম শুধু নয়, কোনো ধর্মই মানুষের জীবনাচরণে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। ধর্ম সব সময় উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সংকট সৃষ্টি করে। ভ্রান্তির জন্ম দেয়। সকল ধর্মকে পরিত্যাগ করে মানবতাবাদী সমাজব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই এর উত্তরণ সম্ভব।

Post Comment